নারী শিক্ষা বিস্তারে বেগম রােকেয়ার অবদান বিশদভাবে বর্ণনা কর? - Askbangla.xyz
Askbangla তে আপনাকে সুস্বাগতম।এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং askbangla এর অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন।বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
11 বার প্রদর্শিত
"শিক্ষা প্রতিষ্ঠান" বিভাগে করেছেন (172 পয়েন্ট)

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (172 পয়েন্ট)
উত্তরা ভূমিকা : বেগম রােকেয়া উনিশ শতকের শেষভাগে ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার অন্তর্গত পায়রাবন্দ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বিস্তৃত বিবরণ জানা যায় নি। তাঁর পিতার নাম ছিল জহিরুদ্দিন মুহম্মদ আবু আলী সাবের। বেগম রােকেয়ার মায়ের নাম রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী।

বেগম রােকেয়ার আবির্ভাবকালে মুসলমান মেয়েদের শিক্ষার আলাে দান করার গুরুত্ব পুরুষসমাজ উপলব্ধি করতে পারে নি। সে সময়ে লেখাপড়া মুসলমান সমাজের এক সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যেই ছিল সীমাবদ্ধ। যুগ যুগ ধরে মুসলিম সমাজে যে কুসংস্কার, কূপমণ্ডুকতা ও অবনতির কারণসমূহ পুঞ্জীভূত হয়ে প্রগতির পথ রুদ্ধ করেছিল তা একমাত্র শিক্ষা প্রচারের দ্বারাই দূর করা যেতে পারে, একথা তাঁর কাছে নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের মতােই ছিল সত্য। তাই তিনি নারী শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

নারী শিক্ষাবিস্তারে বেগম রােকেয়ার অবদান শিক্ষাবিস্তারের দ্বারা সমস্ত কুসংস্কারকে উপেক্ষা করা যায় এ সত্য তিনি অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন। বেগম রােকেয়া তাঁর সমগ্র জীবনের অভিজ্ঞতায় এ সত্যও উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়ে-ছিলেন যে, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এবং শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নতি কোনক্রমেই সম্ভব নয়। দেশের বিপুল জনসমষ্টির অর্ধেক নারী। এ বিপুল জনসমষ্টিকে অশিক্ষা ও অজ্ঞানতার অঙ্ধকারে রেখে জাতির উন্নতি সাধন অলীক কল্পনা মাত্র। একই সমাজদেহের দুই অপরিহার্য অঙ্গ নারী ও পুরুষ। পুরুষের বিকাশ যেমন প্রয়ােজন, তেমনি প্রয়ােজন নারীর বিকাশ। তিনি এ সত্য অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেই সমাজের সার্বিক কল্যাণের স্বার্থে শিক্ষা প্রচারের মাধ্যমে নারী সমাজের উন্নতি সাধনের জন্য স্বীয় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। বেগম রােকেয়া বাংলার মুসলমান নারী সম্প্রদায়ের অধঃপতিত অবস্থা দেখে অত্যন্ত মর্মাহত ও ব্যথিত হয়েছিলেন। দেশ ও জাতির স্বার্থে মুসলমান নারীস মাজের জাগরণের জন্য তিনি শিক্ষাপ্রচার আন্দোলনে ব্রতী হয়েছিলেন।

১. বিদ্যালয় স্থাপন : তিনি প্রথমে ভাগলপুরে মুসলিম বালিকাদের জন্য একটি স্কুল স্থাপন করেন। এ স্কুলটি স্থাপিত হয় তার স্বামীর ইন্তেকালের প্রায় পাঁচ মাস পরে ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবরে। সে সময় স্কুলটির ছাত্রী সংখ্যা ছিল নিতান্তই কম। তাহলেও বেগম রােকেয়া মনােবল হারান নি। তাঁর স্বামী মৃত্যুর পূর্বে মুসলিম মেয়েদের শিক্ষার উন্নতি বিধানের জন্য দশ হাজার টাকা দান করেন এবং স্ত্রী বেগম রােকেয়াকেই তিনি ট্রাস্টি মনােনীত করেন। ১৯১০ সালের শেষভাগে তিনি ভাগলপুর পরিত্যাগ করে কলকাতায় চলে আসেন। এখানেই তাঁর সুপ্ত প্রতিভা পরিপূর্ণভাবে বিকাশ লাভ করার সুযােগ পেয়েছিল। কলকাতায় চলে আসার পর তিনি ১৯১১ সালের ১৬ মার্চ তারিখে নতুন উদ্যমে স্বল্প সংখ্যক ছাত্রী নিয়ে ১৩নং-ওয়ালিউলাহ লেনের একটি বাড়িতে সাখাওয়াত মেমােরিয়াল গার্লস স্কুলের ক্লাস শুরু করেন। এর পূর্বে কলকাতায় মুসলিম বালিকাদের শিক্ষার জন্য মাত্র দু'টি স্কুল ছিল বলে জানা গেছে। ১৩নং ওয়ালিউলাহ লেনের বাড়িতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ১৯১৩ সালের ৯ তারিখে সাখাওয়াতন-মেমাে-রিয়াল গার্লস স্কুল ১৩নং ইউরােপিয়ান এ্যাসাইলাম লেনে সরানাে হয়। ১৯১৫ সালের সূচনায় স্কুলটি উচ্চ প্রাইমারি বিদ্যালয়ে পরিণত হয় এবং বছরের শেষে ছাত্রী সংখ্যা ৮৪ তে দাঁড়ায়। ছাত্রী সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় ১৯১৫ সালের ২৭, ফেব্রুয়ারি এ স্কুল ৮৬/এ লায়ার সার্কুলার রােডের ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়। সাখাওয়াত মেমােরিয়াল গার্লস স্কুল বেগম রােকেয়ার দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এক উল্লেখযােগ্য অংশ অধিকার করেছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যেই বেগম রােকেয়ার অসাধারণ কর্মপ্রচেষ্টায় সাখাওয়াত মেমােরিয়াল গার্লস স্কুলটি উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে পরিণত হয়।

২. আধুনিক ও যুগােপযােগী শিক্ষা : সাখাওয়াত মেমােরিয়াল গার্লস স্কুলের মাধ্যমে মুসলমান নারীসমাজে আধুনিক ও যুগােপযােগী শিক্ষার ব্যাপক প্রচারই ছিল বেগম রােকেয়ার অন্তরের একান্ত কামনা। শিক্ষা সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং গতানুগতিকতার উ্ধ্বে। বেগম রােকেয়া বলেছেন, জাতিবিশেষের অন্ধ অনুকরণ নহে। ঈশ্বের যে স্বাভাবিক জ্ঞান বা ক্ষমতা দিয়াছেন, সে ক্ষমতাকে অনুশীলন দ্বারা বৃদ্ধি
করাই শিক্ষা। ঐ গুণের সদ্ব্যবহার করা কর্তব্য এবং অপব্যবহার করা দোষ। ঈশ্বর আমাদিগকে হস্ত, পদ, চক্ষু, মন এবং চিন্তাশক্তি দিয়াছেন। যদি আমরা অনুশীলন দ্বারা হস্তপদ সবল করি, হস্ত দ্বারা সৎকার্য করি, চক্ষু দ্বারা মনােযােগসহকারে দর্শন করি, কর্ণ দ্বারা মনােযােগপূর্বক শ্রবণ করি এবং চিন্তাশক্তি দ্বারা আরও সৃক্ষ্মভাবে চিন্তা করিতে শিখি তাহাই প্রকৃত শিক্ষা। আমরা কেবল 'পাস করা বিদ্যাকে প্রকৃত শিক্ষা বলি না।

৩. আদর্শ মানুষ গড়া : অর্থ উপার্জন করাই যে শিক্ষা লাভের মূল উদ্দেশ্য বেগম রােকেয়া তা কোনদিনও স্বীকার করেন নি। শিক্ষার মুখ্য উদ্দেশ্য মানুষকে গড়ে তােলা। মেয়েদের সে ধরনের শিক্ষাদান করতে হবে যাতে করে তারা সংসার জীবনে আদর্শ গৃহিণী, আদর্শ নারীরূপে গড়ে উঠতে পারে। আধুনিক জগতের বিভিন্ন জাতির মেয়েদের মত মুসলিম মেয়েরাও যেন জীবনের সর্বক্ষেত্রে যথাযােগ্য স্থান গ্রহণ করতে পারে। তাই শুধু পুথিগত বিদ্যাই নয়, মেয়েদের নানাভাবে দেশের সেবা এবং পরােপকার ব্রতে উদ্বুদ্ধ করে গড়ে তােলা সাখাওয়াত মেমােরিয়াল গার্লস স্কুল স্থাপনের মহতী উদ্দেশ্য ছিল।

৪. মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল স্থাপনে তার ভূমিকা : সাখাওয়াত মেমােরিযাল গার্লস স্কুল স্থাপনের পিছনে সক্রিয় ছিলন একটি আদর্শ, একটি প্রেরণা। এ স্কুলের অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল উপযুক্ত শিক্ষয়িত্রীর অভাব। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষয়িত্রীর অভাবে শিক্ষাদান কাজে নানা অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রতি বছরের বার্ষিক রিপাের্টে মুসলিম মহিলা শিক্ষয়িত্রীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সরকারের ঔদাসীন্যের অবসান হলাে। সরকার ১৯১৯ সালের শেষভাগে কলকাতায় একটি মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল স্থাপন করেন। স্কুলটির পরম সৌভাগ্য যে মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষয়ত্রীই এ স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী। এ স্কুলের জন্য প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষয়িত্রীর প্রয়ােজনীয়তা দেখা না দিলে সরকার এত শীঘ্র মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল স্থাপন করতেন না। বেগম রােকেয়ার শিক্ষাবিস্তার কার্যক্রমের এ এক উল্লেখযোগ্য বিজয়।

৫. স্ত্রী শিক্ষা বিস্তারে বিভিন্ন বাধার অপসারণ : বাংলার মুসলমান নারীসমাজের মধ্যে শিক্ষা কিভাবে দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে, সেটিই ছিল বেগম রােকেয়ার জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য। স্ত্রী শিক্ষাবিস্তারের যেসব অন্তরায় ছিল, সেগুলাে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশেষণ করে তার সুষ্ঠু সমাধানের পন্থা নির্ণয়ের জন্য তিনি সদা সচেতন ছিলেন। বাংলার হতভাগ্য মুসলমান নারীসমাজের মুক্তির চিন্তা তাঁর মনমানসিকতাকে গভীরভাবে আচ্ছন্ন করেছিল। তিনি তাঁর জীবনের সুদীর্ঘকাল অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্যই অতিবাহিত করেছেন। মুসলমান বালিকাদের শিক্ষার দুরবস্থা, স্ত্রী শিক্ষার ব্যাপারে মুসলমান সমাজের প্রতিকূল মনােভাব এবং প্রাণঘাতী অবরােধ প্রথার কুপ্রভাব সম্পর্কে ১৯২৬ সালে বঙ্গীয় নারী শিক্ষা সমিতির (Bengal Women's Educational Conferences) সম্মিলনীতে প্রদত্ত সভানেত্রীর অভিভাষণেও তিনি বিস্তারিতভাবে আলােকপাত করেছেন।

উপসংহার : শিক্ষাদীক্ষা বঞ্চিত অবরােধবন্দিনী মুসলমান নারীসমাজের প্রতি বেগম রােকেয়ার সহানুভূতি ছিল অপরিসীম। মুসলিম নারীসমাজের মুক্তি শুধু শিক্ষাবিস্তারের দ্বারাই যে সম্ভবপর সে বিশ্বাস তার অন্তরে দৃঢ়মূল হয়েছিল মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত বেগম রােকেয়া শিক্ষাবিস্তারের সাথে সম্পর্কিত ছিলেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি উত্তর 6 বার প্রদর্শিত
1 উত্তর 4 বার প্রদর্শিত
04 সেপ্টেম্বর "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
1 উত্তর 4 বার প্রদর্শিত
04 সেপ্টেম্বর "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
1 উত্তর 14 বার প্রদর্শিত
0 টি উত্তর 5 বার প্রদর্শিত
20 মে "ইসলাম ধর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
1 উত্তর 15 বার প্রদর্শিত
2 দিন পূর্বে "সমাজকর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (172 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর 6 বার প্রদর্শিত

1,901 টি প্রশ্ন

1,522 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

69 জন সদস্য

Askbangla.xyz এ আপনাকে বিজিট করার জন্য সুস্বাগতম, এই সাইটে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। তাই আদৃশ্য, অজানা বিষয় সম্পর্কে জান্তে নিয়মিত আমাদের সাইটে বিজিট করুন। আমরা সবসময় দেশ ও দেশের মানুষেকে ভালো কিছু উপহার দেয়ার জন্য সবসময় নিজেদের বিলিয়ে দেই। আমাদের লক্ষ ও উদ্দেশ্য হলো মানবসেবা করা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা। ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন।
2 Online Users
0 Member 2 Guest
Today Visits : 1240
Yesterday Visits : 3007
Total Visits : 116621
...