খ-গােল ও গােলীয় ত্রিকোণমিতি সম্পর্কে জান্তে চাই? - Askbangla.xyz
Askbangla তে আপনাকে সুস্বাগতম।এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং askbangla এর অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন।বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
16 বার প্রদর্শিত
"বিজ্ঞান" বিভাগে করেছেন (172 পয়েন্ট)

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (172 পয়েন্ট)
খগােল : আকাশ পরিষ্কার থাকলে যে কোনােদিন রাত্রিবেলায় আকাশের দিকে তাকালে আপাতদৃষ্টিতে একে গােলাকৃতি বলে মনে হয়। জ্যোতির্বিদ্যার প্রথম যুগে এই গােলককেই মনে করা হতাে আকাশের সীমানা এবং সমস্ত জ্যোতিষ্ক এই গােলকের পৃষ্ঠে আলােকের বিন্দুর মতাে অবস্থিত বলে ধরা হতাে। জ্যোতির্বিদ্যায় গােলীয় ত্রিকোণমিতির সূত্রাদির প্রয়ােগের সুবিধার জন্য এই আকাশে দর্শক- কেন্দ্রীয় অসীম দৈর্ঘ্যের ব্যাসার্ধের একটি গােলকের অস্তিত্ব কল্পনা করা হয়েছে। কোনাে জ্যোতিষ্ক ও দর্শক যােগকারী রেখা যে বিন্দুতে এই গােলকের ভেতরপৃষ্ঠকে ছেদ করে, সেই বিন্দুটিই সেই জ্যোতিষ্কের অবস্থান নির্দেশ করে বলে ধরা হয়। এই গােলককেই খগােল বলে। শুধু গণিতের প্রয়ােগের সুবিধার্থেই এই খগােলের কল্পনা করা হয়, অন্যথায় এর কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই।

কোনাে তারকার প্রকৃত দূরত্ব ও খগােলে তার অবস্থানের দূরত্ব- এই দুইটি জিনিস সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোনাে তারকার প্রকৃত দূরত্ব অপেক্ষা যে দিকে তারকাটি দৃশ্য হয়, সেই দিকটি বা দুটি তারকার কৌণিক দূরত্ব জ্যোতির্বিদ্যায় বেশী গুরুত্বপূর্ণ। এই সমস্ত কারণে তারকাদের প্রকৃত অবস্থানের পরিবর্তে খগােলে তাদের অবস্থান নিলে জ্যোতিষের গণিতীয় চর্চার কোনাে অসুবিধা তাে হয়ই না, বরং এটি আরাে সরল হয়ে পড়ে। সামান্য কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া, সমস্ত তারকাই নিয়মিতভাবে পূর্ব আকাশে উদিত হয় ও পশ্চিম আকাশে অস্ত যায়; সামান্য কিছু তারকার উদয় বা অন্ত দৃশ্য হয় না। তারকাগুলাের উদয় ও অস্ত ব্যাখ্যা করতে ধরা হয় যে এই খগােল তার পৃষ্ঠস্থ সমস্ত তারকাসহ একটি অক্ষের চারিপাশে পূর্ব হতে পশ্চিম অভিমুখে নিয়মিত ঘূর্ণন করে। সমস্ত তারকা খগােলে স্থির বিন্দুর মতাে অবস্থিত থেকে খগােলের এই ঘূর্ণনে অংশ নিচ্ছে। এই খগােলের ঘূর্ণনের ফলেই তারকাগুলাের উদয় ও অস্ত দেখা যায়। এই উদয়ান্তের প্রকৃত কারণ এই যে পৃথিবী একটি অক্ষের চারিপাশে পশ্চিম হতে পূর্ব অভিমুখে ঘূর্ণন করে; তবে পৃথিবীকে স্থির ধরে খগােলের ঘূর্ণন মেনে নিলে জ্যোতিষ্কের আপেক্ষিক অবস্থান বা স্থানাঙ্ক নির্ণয় খুবই সরল হয়ে পড়ে। এই জন্য জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার প্রাথমিক স্তরে পৃথিবী স্থির ও খগােল ঘূর্ণনশীল বলে ধরা হয়। খগােলের একটি ঘূর্ণনে সময় লাগে 23 ঘণ্টা 56 মিনিট 4 সেকেন্ড। এই পরিমাণ সময়কে এক নাক্ষত্রদিন বলে। খগােলের ঘূর্ণনের অক্ষ খগােলকে যে দুটি বিন্দুতে ছেদ করে, তাদের খমেরু বলে। এই ঘূর্ণনের ফলে সমস্ত তারকাই একটি অক্ষের চারিপাশে বৃত্তাকার কক্ষে ঘূর্ণন করে। এই বৃত্তাকার কক্ষগুলােকে তারকাদের আহ্নিক বৃত্ত বলা হয় ।

কোন তারকা মেরু বিন্দুর যত সন্নিকট, তার আহ্নিক বৃত্তও তত ছােট। এটি লক্ষ্য করা যায় যে উত্তরাকাশের তারকাদের আহ্নিক বৃত্ত অপেক্ষাকৃত ছােট, বিশেষত উত্তরাকাশে যেটি ধ্রুবতারা নামে পরিচিত, সেই ধ্রুবতারকাটির আহ্নিক বৃত্ত এত ছােট যে তাকে সর্বদা একই স্থানে স্থির বলে মনে হয়, এর কোনাে ঘূর্ণন দেখা যায় না। খমেরু হতে এর দূরত্ব ।' অপেক্ষাও কম। এটি হতে স্পষ্টই প্রমাণ হয় যে একটি খমেরু উত্তরাকাশে ধ্রুবতারার নিকটে অবস্থিত ও অপরটি দক্ষিণ আকাশে অবস্থিত। উত্তরাকাশে অবস্থিত খমেরুর নাম সুমেরু , দক্ষিণাকাশে অবস্থিত খমেরুর নাম কুমেরু। কোনােরূপ বিভ্রান্তির সম্ভাবনা না থাকলে সুমেরুকে মেরু বলা হয় । জোতির্বৈজ্ঞানিক স্থানাঙ্ক বা খ-গােল স্থানাঙ্ক খগােলে জ্যোতিষ্কদের স্থানাঙ্ক, দিগন্তীয় স্থানাঙ্ক পদ্ধতি পৃথিবী স্বীয় অক্ষে ঘূর্ণন করে বলে দর্শকের নিকট আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যেন খ-গােল একটি অক্ষে ঘূর্ণন করে। জ্যোতিষের বিষয়বস্তু প্রধানত জ্যোতিষ্কদের আপেক্ষিক অবস্থান, দিক ও স্থানাঙ্ক নির্ণয় করা; সেইজন্য খগােলই ঘূর্ণন করে ও পৃথিবী ছির ধরে নিলে জ্যোতিষচর্চায় কোনাে ভুল তাে হয়ই না, উপরন্তু এটি আরাে সরল হয়ে পড়ে। এইজন্য জ্যোতিষচর্চার প্রারম্ভিক রে খ-গােলকে ঘূর্ণনশীল ও পৃথিবীকে স্থির বলে ধরা হয়। খ-গােল যেই অক্ষ বেষ্টন করে ঘূর্ণন করে, তাকে খ-অক্ষ বলে। এই অক্ষ খ-গোলকে যে দুই বিন্দুতে ছেদ করে তাদের খমেরু বলে । এই অক্ষের মধ্যবিন্দুগামী ও অক্ষের ওপর লম্ব একটি সমতল খগােলকে যে গুরুবৃত্তে ছেদ করে, তাকে খ-বিষুব রেখা বলে। বিভ্রান্তির আশঙ্কা না থাকলে একে বিষুব রেখা বলে । খ-বিষুবরেখার উত্তরে অবস্থিত মেরুকে সুমেরু ও দক্ষিণে অবস্থিত মেরুকে কুমেরু বলে। প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর অক্ষই খ-অক্ষ এবং পৃথিবীর বিষুব রেখার তল বর্ধিত হলেই তা খগােলকে খ-বিষুবরেখায় ছেদ করে । উত্তর গােলার্ধের দর্শকদের নিকট শুধু সুমেরুই দৃশ্য হয় বলে এই গ্রন্থে ‘মেরু’ শব্দে সর্বদা সুমেরু বুঝাবে।

খ-বিষুবরেখার সমান্তরাল লঘুবৃত্তকে খ-সমাক্ষবৃত্ত (parallel of declination) বলে। খগােলের ঘূর্ণনের ফলে সমস্ত জ্যোতিষ্কদের এইরূপ সমাক্ষবৃত্তে চলতে দেখা যায়। এইজন্য কোনাে জ্যোতিষ্কের সমাক্ষবৃত্তকে তার আহ্নিক বৃত্ত (diurnal circle) বলে। দর্শকের মাথার সােজাসুজি উপরদিকে খ-গােলে অবস্থিত বিন্দুকে দর্শকের সুবিন্দু (Zenith) বলে। মাথার নিচের দিকে, এর বিপরীত বিন্দুকে কুবিন্দু (Nadir) বলে । সুবিন্দুকে মেরু করে খ-গােলে অঙ্কিত গুরুবৃত্তকে খ-দিগন্ত (celestial horizon) বলে। সুবিন্দু ও কুবিন্দুগামী কোনাে গুরুবৃত্তকে লম্ববৃত্ত (vertical circle) বলে। সমস্ত লম্ববৃত্তই খ-দিগন্তের পাতবৃত্ত। খ-মেরুদ্বয়ামী লম্ববৃত্তকে খ-মধ্যরেখা (celestial neridian) বলে । খ-মধ্যরেখার সঙ্গে সমকোণে অঙ্কিত লম্ববৃত্তকে পূর্বাপরবৃত্ত (prime vertical) বলে। খ-মধ্যরেখা ও খ-দিগন্ত যে দুই বিন্দুতে ছেদ করে, তাদের মধ্যে যেটি খ-মেরুর সন্নিকট, তাকে উত্তর বিন্দু (north point) ও অপরটিকে দক্ষিণ বিন্দু (south point) বলে। পূর্বাপর বৃত্ত ও খ-দিগন্ত যে দুই বিন্দুতে ছেদ করে তাদের মধ্যে যেটি উত্তরবিন্দু হতে খদিগন্ত বরাবরে দক্ষিণাবর্তে (clock wise) অবস্থিত, তাকে পূর্ব বিন্দু (east point) ও অপরটিকে পশ্চিম বিন্দু (west point) বলে। এই চারটি বিন্দুকে দিগবিন্দু (cardinal points) বলে। কোনাে জ্যোতিষ্ক দিয়ে অঙ্কিত একটি লম্ববৃত্ত এবং খ-মধ্যরেখা দিগন্তে যে চাপ ছেদ করে, তাকে সেই জ্যোতিষ্কের দিগংশ (azimuth) বলে। দিগংশ উত্তরবিন্দু হতে পূর্ব অভিমুখে মাপা হয় ও এর মান 0° হতে 360° অবধি হতে পারে। এই লম্ববৃত্তে জ্যোতিষ্কটি ও দিগন্ত যে চাপ ছেদ করে, তাকে, জ্যোতিষ্কটির উন্নতি (altitude) বলে। দিগন্তের ওপর লম্ববৃত্তের পাদবিন্দু হতে জ্যোতিষ্কটি অভিমুখে উন্নতি মাপা হয় ও এর মান 0° হতে 90° পর্যন্ত হতে পারে। মধ্যরেখা অতিক্রমকালে উন্নতিকে মধ্যোন্নতি বলে। কোনাে জ্যোতিষ্কের উন্নতির পূরক কোণ (complementary angle)কে জ্যোতিষ্কটির নতাংশ (zenith distance) বলে। কোনাে জ্যোতিষ্কের দিগংশ ও উন্নতি জানা থাকলে খ-গােলে তার অবস্থান নির্ণয় করা যায়। দিগংশ ও উন্নতি দ্বারা কোন জ্যোতিষ্কের স্থানাঙ্ক নির্দেশ করার পদ্ধতিকে স্থানাঙ্কের দিগন্তীয় পদ্ধতি (Horizontal Co-ordinate system) বলা হয় ।

(ক) জ্যোতিষ্কদের আহ্নিক গতির জন্য এই স্থানাঙ্ক ধ্রুবক নয়, সমস্ত দিনে অনবরত এদের পরিবর্তন হয়।

 (খ) এই স্থানাঙ্ক সম্পূর্ণভাবে স্থানীয়, অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত দর্শকদের নিকট একই জ্যোতিষ্কের ভিন্নরূপ স্থানাঙ্ক হবে।

 (গ) দিগংশ মাপার জন্য নাবিক জ্যোতিষে (nautical astronomy) অপর একটি “অর্ধবৃত্ত পদ্ধতি’ (semicircular system) প্রচলিত আছে।

 এই পদ্ধতিতে উত্তর বিন্দু হতে পূর্ব বা পশ্চিম উভয় অভিমুখেই দিগংশ মাপা হয় ও এটি 0° হতে 180° অবধি হতে পারে। দিগংশ সর্বদা সুস্পষ্ট চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হয় (যেমন N 150° E বা N 150° W ) বলে পূর্ব বা পশ্চিম সম্পর্কে কোনাে বিভ্রান্তি হয় না। দর্শক দক্ষিণ গােলার্ধে থাকলে দক্ষিণ বিন্দু S হতে পূর্ব বা পশ্চিমে দিগংশ মাপা হয় ও উপযুক্ত চিহ্ন (যেমন S 150° E বা S 150° W ) ব্যবহার করা হয় ।

সূর্যের বাৎসরিক গতি খ-গােলে সূর্য ও তারকাগুলাের গতির মধ্যে কয়েকটি পার্থক্য স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায় : (ক) যেকোনাে তারকা পূর্বদিগন্তে একই বিন্দুতে প্রতিদিন উদিত হয় ও পশ্চিম দিগন্তে একই বিন্দুতে প্রত্যহ অস্তগমন করে, কিন্তু দিগন্তে সূর্যের উদয় (ও অস্ত) প্রতিদিনই ভিন্ন ভিন্ন বিন্দুতে হয় ।

(খ) যেকোনাে তারকার মধ্যোন্নতি (meridian altitude) প্রতিদিনই একই থাকে, কিন্তু সূর্যের মধ্যোন্নতির প্রতিদিনই পরিবর্তন হয়, বিশেষত : শীতে ও গ্রীষ্মে এই মধ্যোন্নতির পার্থক্য খুবই স্পষ্ট হয়।

(গ) প্রতিদিন রাত্রিবেলা একই নির্দিষ্ট সময়ে আকাশে তারকাদের অবস্থানের চিত্র একই স্থানে দৃশ্য হয় না; অগ্রহায়ণ মাসে কালপুরুষকে সন্ধ্যাবেলায় পূর্ব-দিগন্তের নিকটে দেখা যায়, কিন্তু মাঘ মাসে দিগন্তের অনেক ওপরে, এবং চৈত্র মাসে প্রায় পশ্চিম দিগন্তে দেখা যায়।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি উত্তর 3 বার প্রদর্শিত
31 অক্টোবর "শিক্ষা প্রতিষ্ঠান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (172 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর 4 বার প্রদর্শিত
30 অক্টোবর "স্বাস্থ্য টিপস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (172 পয়েন্ট)
1 উত্তর 6 বার প্রদর্শিত
0 টি উত্তর 5 বার প্রদর্শিত
2 দিন পূর্বে "বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (172 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর 5 বার প্রদর্শিত
2 দিন পূর্বে "বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (172 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর 5 বার প্রদর্শিত
2 দিন পূর্বে "বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (172 পয়েন্ট)

1,901 টি প্রশ্ন

1,522 টি উত্তর

5 টি মন্তব্য

69 জন সদস্য

Askbangla.xyz এ আপনাকে বিজিট করার জন্য সুস্বাগতম, এই সাইটে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। তাই আদৃশ্য, অজানা বিষয় সম্পর্কে জান্তে নিয়মিত আমাদের সাইটে বিজিট করুন। আমরা সবসময় দেশ ও দেশের মানুষেকে ভালো কিছু উপহার দেয়ার জন্য সবসময় নিজেদের বিলিয়ে দেই। আমাদের লক্ষ ও উদ্দেশ্য হলো মানবসেবা করা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা। ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন।
2 Online Users
0 Member 2 Guest
Today Visits : 1164
Yesterday Visits : 3007
Total Visits : 116545
...